হলিউডে বেকার হয়ে পড়ছে তারকা পশু-পাখিরা

হলিউডে বেকার হয়ে পড়ছে তারকা পশু-পাখিরা

তারা একসময় বক্স অফিসে নিয়মিত হিট এনে দিয়েছে, অস্কারজয়ী ছবিতে অভিনয় করেছে, এমনকি বড় তারকাদেরও ছাপিয়ে যেত জনপ্রিয়তা ও অভিনয়ে—কিন্তু এখন সেই পশু তারকারাই বেকার বসে আছে। কাজ পাচ্ছে না মাসের পর মাস। 

কুকুর, বিড়াল থেকে ঘোড়া—হলিউডের চারপেয়ে তারকাদের দিন যেন শেষ হতে চলেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরের এক উপত্যকায় শান্ত পরিবেশে বাস করছে রোকো। সেন্ট বার্নার্ড–বক্সার মিশ্র জাতের কুকুর। একসময় সে অভিনয় করেছিল ‘ভেরোনিকা মার্স’, ‘জেইন দ্য ভারজিন’ এবং ‘দ্য মর্নিং শো’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে। এখন মাঝে মাঝে বিজ্ঞাপনের কাজ পেলে সেটাই তার জন্য বড় খবর। আজও রোকো তার সঙ্গী পোর্টারের সঙ্গে খেলে, দৌড়ায়। কিন্তু সিনেমার ডাক আর পায় না তারা।

রোকোর মতো অনেক পশু অভিনেতাই আজ বেকার। কারণ, আধুনিক প্রযুক্তি—বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)—এখন চলচ্চিত্রে বাস্তব পশুর পরিবর্তে ভার্চুয়াল প্রাণী তৈরি করছে। পরিচালক ও প্রযোজকরা মনে করছেন, এতে খরচ কম, নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই এবং সময়ও বাঁচে। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68fc848a08b53" ) ); কারিন ম্যাকএলহ্যাটন, স্টুডিও অ্যানিমেল সার্ভিসেস-এর মালিক, যাদের প্রাণীগুলো ‘ঘোস্টবাস্টার্স’, ‘এল এ কনফিডেনশিয়াল’ ও ‘সিসিআই: মিয়ামি’-এর মতো ছবিতে কাজ করেছে। তিনি বললেন, ‘স্টুডিওগুলোর প্রাণী ব্যবহারের পরিমাণ এখন অনেক কমে গেছে। এআই শুধু নয়, কোভিড, ২০২৩ সালের ধর্মঘট এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। কিন্তু এআই হয়তো আমাদেরকে শেষ আঘাতটা দিতে চলেছে।’

লস অ্যাঞ্জেলেসের দক্ষিণে বেনে কার্প, যিনি ‘বেনেজ বার্ডস অ্যান্ড অ্যানিমেল রেন্টালস’ নামের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘ দিন। তিনি জানিয়েছেন—কাজ এখন আগের তুলনায় মাত্র ৪০% আছে। তার প্রশিক্ষিত পাখিরা একসময় ‘মিরর মিরর’ বা ‘গ্রেস অ্যান্ড ফ্র্যাংকি’-এর মতো প্রযোজনায় নিয়মিত দেখা যেত। তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘গত চার-পাঁচ বছরে কেউ আমাকে কাঠঠোকরার জন্য ডাকে না। সিগালদের দলও প্রায় বেকার।’

বন্যপ্রাণীদের (যেমন সিংহ, ভালুক, নেকড়ে) কাজ আগেই কমে গিয়েছিল নিরাপত্তা ও প্রাণী-কল্যাণ ইস্যুর কারণে। এখন গৃহপালিত পশুরাও সেই তালিকায় যোগ হচ্ছে। কারণ ‘ল্যাসি’, ‘রিন টিন টিন’ বা ‘বিথোভেন’–এর মতো ক্লাসিক সিনেমার যুগ শেষ। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68fc848a08ba8" ) ); এখন তো এমনকি কুকুরও ভার্চুয়াল! ২০২০ সালের ‘দ্য কল অব দ্য উইল্ড’-এ হ্যারিসন ফোর্ডের সহ-অভিনেতা ‘বাক’ ছিল পুরোপুরি কম্পিউটার-জেনারেটেড কুকুর। আর ২০২৫ সালের ‘সুপারম্যান’-এ পরিচালক জেমস নিজের কুকুর ‘ওজু’র ডিজিটাল সংস্করণ ব্যবহার করেছেন ‘ক্রিপ্টো’ চরিত্রে।

অতীতে ওয়েস্টার্ন বা ঐতিহাসিক ছবিতে বাস্তব ঘোড়ার প্রয়োজন ছিল অপরিহার্য। কিন্তু প্রশিক্ষক লিসা ব্রাউন বলছেন, ‘‘সেক্রেটারিয়েট’ ছবিতে আমরা পাঁচটা ঘোড়াকে রঙ করে এক চরিত্রে মিলিয়েছিলাম। এখন এটা ডিজিটালেই অনেক সস্তা ও হজে করা সম্ভব।’’

সবাই অবশ্য এই পরিবর্তনে দুঃখিত নয়। পেটা (পিপল ফর দ্য এথিকাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমেলস) অনেক দিন ধরেই চলচ্চিত্রে বাস্তব প্রাণীর ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, প্রাণীদের দিয়ে অভিনয় করানো মানে তাদের শোষণ করা।

সংস্থার পরিচালক লরেন থমাসন বলেন, ‘‘কিংডম অব দ্য প্ল্যানেট অব দ্য অ্যাপেস’ বা ‘মুফাসা’-এর মতো চলচ্চিত্র দেখিয়েছে যে, প্রযুক্তি কীভাবে ভালো কাজে ব্যবহার করা যায়—এটা অবুঝ প্রাণীর কষ্ট শেষ করার উপায় বলে মনে করছি আমরা।” jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68fc848a08c12" ) ); তবে প্রশিক্ষকরা বলছেন, বাস্তব প্রাণী যে গভীর আবেগ ও সত্যতা নিয়ে আসে, সেটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা অসম্ভব। কানাডাভিত্তিক প্রশিক্ষক বনি জাড বলেন, “২০১৯ সালের ‘আ ডগস জার্নি’-এর এক দৃশ্যে আমি কুকুরটিকে চোখ বন্ধ করতে বলি। ক্যামেরা যখন তার মুখের দিকে এগোয়, গোটা স্টুডিও কেঁদে ফেলেছিল। এআই দিয়ে এমন অনুভূতি তৈরি করা যায় না।”

আবার ফিরে যাওয়া যাক রোকো ও পোর্টারের কাছে। দু’জনের খেলা শেষে প্রশিক্ষকরা যখন তাদের ডাকলেন, তারা একজোড়া সাকুলেন্ট গাছের মাঝখানে এসে দাঁড়াল—চোখে চকচক করা আশা, আর মুখে মিষ্টি হাসি!

হলিউড হয়তো ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করছে, কিন্তু রোকোদের মতো বাস্তব চারপেয়ে অভিনেতাদের উষ্ণতা, আবেগ ও জীবন্ত উপস্থিতির বিকল্প এখনও কেউ খুঁজে পায়নি। এমনটাই মনে করছেন দর্শক সমালোচকরা। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68fc848a08c74" ) ); সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার

Comments

0 total

Be the first to comment.

এক টিকিটে তিন নাটক! BanglaTribune | বিনোদন

এক টিকিটে তিন নাটক!

নাট্যপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য সন্ধ্যা অপেক্ষা করছে! চারুনীড়ম থিয়েটার উদযাপন করতে যাচ্ছে তাদের ১০০তম ম...

Sep 13, 2025

More from this User

View all posts by admin