বাংলাদেশে নানা ধরনের সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। এর শিকার হচ্ছে প্রায় সব শ্রেণির মানুষ। সাইবার অপরাধে ডিপফেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের বিষয়টি এখন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব মোকাবিলায় সচেতনতার বিকল্প নেই।
আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনায় এসব কথা বলা হয়। সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস (অক্টোবর) উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিসিএফ)।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) উপপরিচালক তাপসী রাবেয়া বলেন, সাইবার অপরাধের নানা ধরন দেখা যাচ্ছে এখন। নানাভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে মানুষ সহায়তার জন্য আসছে। এ ধরনের প্রতারণার শিকার শুধু গ্রামের মানুষই হচ্ছে না; শিক্ষিত, ভালো চাকরি করা মানুষজনও ফাঁদে পড়ছে। বেশি শিকার তরুণেরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক এখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন মোবাইল অপারেটর রবির সাইবার সিকিউরিটি প্ল্যানিংয়ের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শফি উল্লাহ। তিনি বলেন, এসব মোকাবিলায় সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষকে জানাতে হবে। ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির কোনো সীমানা নেই। তবে এর প্রভাব সব জায়গায় এক।
সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতাবিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব মো. মুশফিকুর রহমান লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডিপফেক ও এআইয়ের অপব্যবহার সমাজের ক্ষতি করে। এটা রাষ্ট্রীয় অস্থিরতাও তৈরি করতে পারে।
ডিপফেক অডিও-ভিডিও এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন সিসিএফের উপদেষ্টা সৈয়দ জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, তারকা, রাজনীতিবিদ, প্রভাবশালী—সবাই এর শিকার হচ্ছেন।
সারা বিশ্বে অক্টোবরকে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিসিএফ অক্টোবর মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির কথা জানায়। বলা হয়, তারা মাসজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারাভিযান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা-কর্মশালাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজ করবে।
এ বছর সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাসের প্রচারাভিযানে চারটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে। এগুলো হলো—শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার। বহুস্তরের নিরাপত্তা। প্রতারণা জানুন ও অভিযোগ করুন। হালনাগাদ সফটওয়্যার ব্যবহার।