সোশ্যাল মিডিয়া সবার জন্য ‘ক্ষতিকর’ নয় : গবেষণা

সোশ্যাল মিডিয়া সবার জন্য ‘ক্ষতিকর’ নয় : গবেষণা

নেদারল্যান্ডসের নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার মানসিক সুস্থতার উপর খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, যেমনটি সাধারণত বিশ্বাস করা হয়। গবেষণায় মনে করা হয়, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও মানসিক অবনতি সংক্রান্ত যে সম্পর্ক দেখা যায়, তার একটি বড় অংশই জিনের প্রভাব দ্বারা নির্ধারিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া বেশি ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক সুস্থতা খারাপ হওয়ার একটি ছোট মাত্রার সম্পর্ক আছে। তবে টুইনদের উপর করা গবেষণা থেকে বোঝা যায়, এই সম্পর্কের অনেকটাই ব্যক্তির জেনেটিক বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রভাবিত।

গবেষণাদলের প্রধান ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সাইকোলিংগুইস্টিক্স-এর গবেষক লেখক সেলিম সামেতোগলু বলেন, আমাদের গবেষণা দেখায় যে সোশ্যাল মিডিয়া সবার জন্য ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ নয়। প্রভাব সামান্য এবং ব্যক্তির জিনগত পার্থক্য এখানে বড় ভূমিকা রাখে।

টুইনরা জিনগতভাবে প্রায় একই রকম হওয়ায়, বিজ্ঞানীরা সহজে বুঝতে পারেন কোন প্রভাব জিন বা পরিবেশের কারণে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, টুইনরা যদি মানসিক বা আচরণগত কোনও দিক দিয়ে বেশি মিল রাখে, তবে জিনের প্রভাব বেশি মনে করা হয়।

গবেষণার পদ্ধতি ও ফলাফল

গবেষকরা নেদারল্যান্ডস টুইন রেজিস্টার থেকে ৬ হাজারেরও বেশি একনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃজনিত টুইনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহৃত সময়, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাটে ব্রাউজিং ও পোস্ট করা, পরিমাপ করেছেন। এ ছাড়া মানসিক সুস্থতার বিভিন্ন সূচক, যেমন উদ্বেগ ও বিষণ্নতা, ট্র্যাক করা হয়েছে।

ফলাফল দেখায়, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ও মানসিক সমস্যার মধ্যে মৃদু নেতিবাচক সম্পর্ক আছে। কিন্তু এই সম্পর্কের অনেকটাই ব্যক্তির জিন দ্বারা প্রভাবিত। উদাহরণস্বরূপ, যারা জিনগতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় ব্যয় করতে প্রবণ, তারা মানসিক চাপ বা উদ্বেগের প্রতিকূলতার ক্ষেত্রেও বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।

গবেষকরা অনুমান করেছেন, জিনই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ৭২ শতাংশ পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারে।

তাদের গবেষণায় আরও দেখা যায়, যারা ভালো মানসিক সুস্থতায় আছেন তারা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন, আর যারা খারাপ সুস্থতায় আছেন তারা তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক প্ল্যাটফর্মে বেশি পোস্ট করছেন। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার জীবনে ইতিবাচক অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিতও হতে পারে।

গবেষকদের পরামর্শ

গবেষকরা মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতির বিষয়ে সাধারণ মন্তব্য করা ঠিক নয়। তারা বলেন, “প্রতিটি ব্যক্তির জিন, প্রেক্ষাপট এবং সমর্থন সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সোশ্যাল মিডিয়া দোষারোপ বা সীমাবদ্ধতা মানসিক সুস্থতার সমস্যা সমাধান করবে না।”

গবেষকরা সঠিক ব্যালান্সে ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি ক্ষতিকর নয়, তবে মাঝেমধ্যেই বিরতি নেওয়া উচিত।

সূত্র: গিজমোডো

Comments

0 total

Be the first to comment.

মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তি: ওপেনএআই’র বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার BanglaTribune | তথ্যপ্রযুক্তি

মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তি: ওপেনএআই’র বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এখন আর শুধু অলাভজনক সংস্থা নয়—এবার তার...

Oct 29, 2025

More from this User

View all posts by admin