প্রতারণার মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে এবার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই জনকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস করে সাজা ভোগ করতে হবে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেস্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন সাজার রায় দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. নাজমুল ইসলাম তালুকদার জানান।
এটি নিয়ে এ পর্যন্ত ছয়টি মামলায় এই দম্পতির মোট ১৭ বছর কারাদণ্ড হলো। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরুর পর গাড়ি, মোটরসাইকেল, আসবাবপত্র, স্মার্ট টিভি, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিনের মত পণ্য অর্ধেক দামে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে সাড়া ফেলে অনলাইন মার্কেট প্লেস ইভ্যালি।
তাদের চটকদার অফারের ‘প্রলোভনে’ অনেকেই বিপুল অঙ্কের টাকা অগ্রিম দিয়ে পণ্যের অর্ডার করেছিলেন, পরে বেশি দামে বিক্রি করে ভালো লাভ করার আশায়। কিন্তু মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও তাদের অনেকে পণ্য বুঝে পাননি। ইভ্যালি অগ্রিম হিসেবে নেওয়া টাকাও ফেরত দেয়নি।
এক পর্যায়ে ক্রেতা ও পণ্য সরবরাহকারীদের কাছে ৫৪৩ কোটি টাকার দায়ে পড়ে ইভ্যালি। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ইভ্যালিসহ আরও বেশ কিছু ই কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভে নামে গ্রাহকরা।
সে সময় রাসেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কয়েকশো মামলা হয়। এ মামলা তারই একটি।
কোম্পানির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেখে বাদী সাদিকুর রায়হান ২০২১ সালের ২০ মার্চ তিনটি মোটরসাইকেল অর্ডার করেন। নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে মোটরসাইকেলগুলো তাকে হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হন। এরপর তাকে সিটি ব্যাংকের দুইটি চেক প্রদান করা হয়। ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল চেক দুইটি নগদায়ন করতে গেলে তা ফেরত আসে। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর সাদিকুর রায়হান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।