টঙ্গীতে ভূমিকম্পে পদদলিত হয়ে শতাধিক আহত, হেলে পড়েছে ভবন

টঙ্গীতে ভূমিকম্পে পদদলিত হয়ে শতাধিক আহত, হেলে পড়েছে ভবন

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় ভূমিকম্প আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মার্কেটেরে ব্যাবসায়ী, ক্রেতা এবং আবাসিক বাসভবনের লোকজন বাইরে বের হওয়ার সময় পদদলিত হয়ে শতাধিক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। এতে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রায় ২৫ জন এবং মা টাওয়ার ও ফ্যাশন প্লাজাসহ অন্য তিন প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন শ্রমিক ও ক্রেতা আহত হন। টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় একটি ৬ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন হেলে পড়েছে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে ভূমিকম্প অনুভূত হলে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে গাজীপুরের টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। উঁচু ভবন দুলতে শুরু করলে ঘরবাড়ি, অফিস, শিল্পকারখানা, দোকানপাট থেকে মানুষ দ্রুত খোলা জায়গায় ছুটে আসেন। গাজীপুরে বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানায় আতঙ্কে নামতে গিয়ে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, টঙ্গীর বিসিক এলাকার ফ্যাশন পালস লিমিটেড এবং চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার কোস্ট টু কোস্ট কারখানাসহ একাধিক শিল্প কারখানায় শ্রমিকরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করলে সিঁড়িতে ধাক্কাধাক্কি ও পদদলিত হয়ে অন্তত শতাধিক শ্রমিক আহত হন। জরুরি নিরাপত্তা গেট বন্ধ থাকায় পদদলিতের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অধিকাংশই হাতে, পায়ে ও বুকে আঘাত পেয়েছেন। মহানগরীর বাসন থানাধীন কোজিমা লিরিক কারখানা, লীবাস টেক্সটাইল লিমিডেট, হাসান তানভীর কারখানা, ডে ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকরা ভূমিকম্পের সময় তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় একটি ছয়তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন হেলে গিয়ে পার্শ্ববর্তী ভবনের ওপর ঝুঁকে পড়েছে। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভবন হেলে পড়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনটি পরিদর্শন করে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি ওহেদুজ্জামান বলেন, আতঙ্ক বের হতে গিয়ে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ইশরাত জাহান (এনি) বলেন, ভূমিকম্প হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা অনেক রোগী আসে এদের অধিকাংশ কারখানা শ্রমিক। এদের মধ্যে অনেকেই ভয়ে অসুস্থ হয়েছে। আমরা কমপক্ষে শতাধিক মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছি এবং যাদের অবস্থা গুরুতর তাদের অন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান বলেন, টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ৮৫ জন এবং গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯০ জন ভর্তি রয়েছে। এ ছাড়া অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। অনেকে বেসরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৭ রোগী ভর্তি আছেন। এর আগে ১৩০ জন ভর্তি ছিলেন। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin