একটি চারা গাছ ফুল ফোটাতে চায়ফলের অমৃত বিশ্লেষণ হতে চায়বাতাসের ঘূর্ণিঝড় হতে চায়আকাশের অসীমতা হতে চায়ব্যাপ্তিশীল সময়কাল হতে চায়।একটি চারা গাছের ভুল আকুতিনিজের অস্তিত্বকেই স্বীকার করে নাইচ্ছেরা ঝরা পাতায় ভর করেদিকবিচ্ছিন্ন হয়ে উড়তে থাকেঘুমাতে না দেওয়ার স্বপ্ন অর্থহীন হয়ঘুমন্ত স্বপ্নই হয়ে ওঠে স্বপ্নের চাবিকাঠিতাকিয়ে থাকাই এখানে দেখাদেখার তাৎপর্য নিরুত্তাপ জীবনহীন।
হিমালয়ের দুঃখ বিশালবিশালতাই এখানে দুঃখের অনুমোদনঅসমতাই একাকিত্বের অন্তহীন পীড়ননীরব অশ্রুপাতই ভাষা প্রকাশের প্রস্রবণস্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকাই পথচলার গতিবিচ্ছিন্ন জীবনই জীবনের বন্ধন, স্পন্দনঝড়ঝঞ্ঝার বিক্ষুব্ধ বাতাসই বন্ধুত্বের করমর্দনতুষারধারাই প্রেয়সীর প্রেমময় আলিঙ্গনপাথরের চোখেই নির্মিত চোখের বিচিত্রতানির্বাক কণ্ঠস্বরই সর্বজনীন কণ্ঠস্বরমৌনতাই শব্দ প্রকাশের ধর্মনিস্তব্ধ রাতকে জড়িয়ে থাকাই আনন্দচাঁদের স্নিগ্ধতাই সৃষ্টিশীল জীবনের মুগ্ধতাস্বপ্ন এখানে আনুভূমিক নয়, উল্লম্বিক।
বহু শূন্যতার দায় নিয়ে পথ চলছিযুক্তিহীনভাবে বয়ে চলছি—শূন্যতার ভারী জীবনপদযুগল মাঝে মাঝে গেঁথে যায় পদের ভেতরজীবনচাকা বিদীর্ণ হয় চাকার ভেতরদহনের পথ আরও প্রসারিত হয়নীরবতার নীরব বর্ষণই পথচলার হাতিয়ারপ্রান্তস্বরের কণ্ঠস্বরই সজীব কণ্ঠস্বরচোখের তারা বর্ণহীন চাদরে পরিবেষ্টিতশূন্যতার প্রবল ঝড়ে ঝরা পাতাও—পাখি হয়ে উড়ে যায়সময়ের সকল পরিচিতি চলে যায়—নীল শূন্যতায়কালের নিঃশব্দ আর্তনাদে বাড়তে থাকে তুষারপাতকৃষ্ণচূড়ার বর্ণ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়পৃথিবী যুক্ত হয় অন্য কোনো গ্রহেজীবনরসায়ন রস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়চলার পথ চলে যায় অন্য কোনো শপথেসাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে গাছ-হিমালয়বয়ে চলে ঝিরঝির বাতাসের গানতীর ভাঙা নদীর অন্তহীন কলতান।
যে সময় শেকড় থেকে বেড়ে ওঠে নাডালপালা নিয়ে কাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়শূন্যে উড়ে ঘুরতে থাকেযেখানে কোনো কক্ষপথ থাকে নাশুধু ঘূর্ণাবর্তের খেলা চলেহারানো স্মৃতির ফুল, মত্ত ফল উপহার দেয়আদির সাথে অন্তের শর্ত এখানে ম্লানআলোর ভুবনে আলো হয় ম্রিয়মাণ।
বগিগুলো রেলের ইঞ্জিনের সাথে যুক্ত হচ্ছে নাসমন্বয়হীনতা আর বিচ্ছিন্নবোধ কাজ করছেসবগুলোই সরাসরি ইঞ্জিনের সাথে থাকতে চায়কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজযৌক্তিক বিশ্লেষণ এখানে গ্রহণযোগ্য নয়শেকড়ের সাথে এদের সম্পর্ক শিথিলপ্রশ্ন শুধু প্রশ্নের মাঝেই লীনবিজ্ঞতার সকল উত্তর এখানে নির্বাসিতমস্তিষ্ক এখানে নিরুত্তাপ, মূল্যহীনশৃঙ্খলতার সকল শীলন এখানেহাত, পা ও কণ্ঠের মাঝে সীমাবদ্ধইচ্ছের বাতাস এখানে ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোনঅর্থহীন নিরর্থক প্রলাপপাতার মর্মর শব্দ মাছির ভনভন শব্দশেষ পর্যন্ত শুধু ইঞ্জিন নিয়েই চালকগন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলছেবালেগ হওয়ার সকল প্রকরণব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছেতাই রেলচালক এখন নাবালক।