গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, ‘তারেক রহমানের আন্দোলন যৌক্তিক, তার দলকে অবশ্যই নিবন্ধন দিতে হবে।’
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে তারেক রহমানের আমরণ অনশনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) তিনটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই তালিকায় ‘আমজনতার দল’ না থাকায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান ফটকের সামনে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকাল থেকে আমরণ অনশনে বসেছেন দলটির সদস্য সচিব তারেক রহমান। আজ তার অনশনের প্রতি সংহতি জানাতে আসেন রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যিনি সবসময় রাজপথে লড়াই করেছেন তিনি আমজনতা দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান। তিনি প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে নির্বাচন কমিশনের মূল ফটকের সামনে তার দলের নিবন্ধনের দাবিতে অনশন করছেন। আমরা রাজপথে বিভিন্ন সময় তার আন্দোলন সংগ্রাম দেখেছি।’
রাশেদ খান বলেন, ‘গতকাল আমরা দেখেছি, তিনটি দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এনসিপি নিবন্ধন পেয়েছে, আমরা তাদের শুভকামনা জানাই। কিন্তু বাকি দুটি দল কীভাবে নিবন্ধন পায়, সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে। নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রে এক নম্বর শর্ত হতে হবে রাজপথের সক্রিয়তা। কিন্তু এই সক্রিয়তা বিবেচনা না করে শুধু কমিটি দিয়েছে, বাসা-বাড়িকে অফিস হিসেবে দেখিয়ে; তারা কৌশলে নিবন্ধন পাবে সেটি আমরা কোনভাবেই মানতে পারি না।’
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ২৪ এর ডামি নির্বাচনের আগে কীভাবে বিএনএম, সুপ্রিম পার্টিসহ কয়েকটি দলকে ডিজিএফআই’র নির্দেশনায় নিবন্ধন দেওয়া হয়। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে আমরা অনুরোধ জানিয়েছিলাম, এসব ভুঁইফোড় দল; যারা আগে ডিজিএফআই’র মাধ্যমে নিবন্ধন পেয়েছে, অবশই তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। কিন্তু বাতিল করা হয়নি। উল্টো গণঅভ্যুত্থানের পরে রাজপথের সক্রিয় দলগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।’
আলোচিত ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের ‘বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি’কে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, ‘ডেসটিনি প্রায় ৪২ লাখ গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করে। সেই দলও দেখলাম নিবন্ধন পেলো। এই দল কীভাবে নিবন্ধন পেলো? ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের আগে আমরা এই দলকে কখনোই রাজপথে দেখি নাই। হঠাৎ করে জেল থেকে বের হলো। দল গঠন করলো। কমিটি দিলো। বাসাবাড়িকে অফিস হিসেবে দেখিয়ে দিলো। তারা নিবন্ধন পেলো। কিন্তু তারেক রহমান যাকে আপনারা সবাই চেনেন, রাজপথে সবসময় সংগ্রাম করেছেন, তার দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।’
রাশেদ খান বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে সংহতি জানানোর জন্য এখানে এসেছি। এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলবো। তিনি (তারেক রহমান) অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। প্রায় ২০ ঘণ্টার বেশি সময় তিনি পাড়ি দিয়েছেন। এখানে সারা রাত তিনি শুয়েছিলেন। মশার কামড় খেয়েছেন। এভাবে একজন রাজপথের সংগ্রামী নেতা রাস্তায় শুয়ে থাকবেন, নির্বাচন কমিশনার কোনও মন্তব্য করবে না; সেটি হতে পারে না। তারা কী ভাবছেন, কী করবেন; সেটি জানার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলতে এই মুহূর্তে আমি যাবো।’
গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী), বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন দাবি-আপত্তি চেয়ে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এরপর দাবি-আপত্তি এলে তা নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত নিবন্ধন দেওয়া হবে।’